Dhaka ০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে রায়গঞ্জে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম  সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে জ্বালানিমন্ত্রীর বাড়ির গ্যাস রাইজারে আগুন রায়গঞ্জে স্বামীর মুক্তির দাবিতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন সলঙ্গার গাড়াদহ নদীতে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে পোনামাছ অবমুক্ত রায়গঞ্জে নদী-বিল-পুকুরে ছাড়া হলো ২৮৫ কেজি পোনামাছ সিরাজগঞ্জে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত, আহত ৩
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

মোবাইল গেমে আসক্তি, কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে আমাদের শিশুরা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মার্চ ২০২৪
  • ৮৭৯ Time View

নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তি তথা মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ এসব ডিভাইস সৃজনশীল এবং সুবিধাজনক। কিন্তু শিশুদের জন্য এটি বেশ বিপদজনক। এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার অর্থাৎ অত্যধিক স্ক্রিন টাইম শৈশবের সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের ওপর ভীষণ ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব ফেলে।স্কুলপড়ুয়া শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইল গেম ও কার্টুনে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেরও বর্তমান চিত্র এমনই। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই রায়গঞ্জের শিশুরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক স্কুলগুলো পর্যবেক্ষণ করে এমন চিত্র দেখা মিলে। বিশেষ করে শিশু শ্রেশির শিক্ষার্থীদের মাঝে এ সমস্যাটি যেন প্রবল আকার ধারণ করেছে। তবে শিশু শ্রেণির ছেলে-মেয়েরা শুধু নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র-ছাত্রীরা স্মার্টফোনের গেমে আসক্ত বেশি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর বারান্দায় শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মোবাইল হাতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এখন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। অথচ তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে গেমসের নেশায়। উঠতি বয়সের তরুণ প্রজন্ম প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গেম খেলায় আসক্ত হচ্ছে বেশি।এসব থেকে ছেলে-মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশিষ্টজনেরা মনে করেন। শিশুরা যেখানে টাকা জমিয়ে ক্রিকেট বল, ফুটবল কেনার কথা, সেখানে তারা টাকা জমিয়ে রাখছে এসব কেনার জন্য।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফ্রি ফায়ার গেমস প্রথমে তার ভালো লাগত না। কিছুদিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন আসক্ত হয়ে গিয়েছি। এখন গেমস না খেললে অস্বস্তি লাগে।’

‘অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে অ্যান্ড্রয়েড ফোন শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়া এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এমন পরিস্থিতি এমন হয়েছে। । বাস্তব জীবনে, যেসব শিশু এসবে আসক্ত, তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন: খেলাধুলা, দৌঁড়ানো বা সাইকেল চালানো মিস করে। ফলে তাদের দক্ষতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। মনোনিবেশ করার ও বাস্তব জীবনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এ ধরনের আসক্তি। তাই শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের চোখের বিশ্রামের জন্য স্ক্রিন থেকে পর্যাপ্ত সময় বিরতি নিতে উপদেশ দিতে হবে। টিভি, মোবাইল গেম বা যে কোনো ধরনের ভার্চুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার বের হয়। এ ডোপামিন আমাদের মনে এক ভালোলাগার অনুভূতি সঞ্চার করে। তার ফলে অতি সহজেই আমরা এ ধরণের এন্টারটেইনমেন্ট মিডিয়ামগুলোতে (বিনোদনের মাধ্যম) আসক্ত হয়ে পড়ি।’ ‘মোবাইল ফোন শিশুদের মস্তিষ্কের বড় ক্ষতি করে। এ বিষয়ে মনরোগ বিভাগের মাধ্যমে অভিভাবকদের মাঝ সচেতনতামূলক আলোচনা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো হয়তো এর থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব হবে।
লেখক,
মোঃ মনিরুল ইসলাম
আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ত্যাগীদের মূল্যায়নে সলঙ্গার ঘুড়কা ইউনিয়ন শ্রমিক দল গড়ছেন সভাপতি আবু সাইদ

মোবাইল গেমে আসক্তি, কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে আমাদের শিশুরা।

Update Time : ০৪:১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মার্চ ২০২৪

নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তি তথা মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ এসব ডিভাইস সৃজনশীল এবং সুবিধাজনক। কিন্তু শিশুদের জন্য এটি বেশ বিপদজনক। এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার অর্থাৎ অত্যধিক স্ক্রিন টাইম শৈশবের সামাজিক এবং মানসিক বিকাশের ওপর ভীষণ ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব ফেলে।স্কুলপড়ুয়া শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইল গেম ও কার্টুনে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেরও বর্তমান চিত্র এমনই। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই রায়গঞ্জের শিশুরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রাথমিক স্কুলগুলো পর্যবেক্ষণ করে এমন চিত্র দেখা মিলে। বিশেষ করে শিশু শ্রেশির শিক্ষার্থীদের মাঝে এ সমস্যাটি যেন প্রবল আকার ধারণ করেছে। তবে শিশু শ্রেণির ছেলে-মেয়েরা শুধু নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র-ছাত্রীরা স্মার্টফোনের গেমে আসক্ত বেশি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর বারান্দায় শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মোবাইল হাতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এখন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। অথচ তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে গেমসের নেশায়। উঠতি বয়সের তরুণ প্রজন্ম প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গেম খেলায় আসক্ত হচ্ছে বেশি।এসব থেকে ছেলে-মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশিষ্টজনেরা মনে করেন। শিশুরা যেখানে টাকা জমিয়ে ক্রিকেট বল, ফুটবল কেনার কথা, সেখানে তারা টাকা জমিয়ে রাখছে এসব কেনার জন্য।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফ্রি ফায়ার গেমস প্রথমে তার ভালো লাগত না। কিছুদিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন আসক্ত হয়ে গিয়েছি। এখন গেমস না খেললে অস্বস্তি লাগে।’

‘অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে অ্যান্ড্রয়েড ফোন শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়া এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এমন পরিস্থিতি এমন হয়েছে। । বাস্তব জীবনে, যেসব শিশু এসবে আসক্ত, তারা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন: খেলাধুলা, দৌঁড়ানো বা সাইকেল চালানো মিস করে। ফলে তাদের দক্ষতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। মনোনিবেশ করার ও বাস্তব জীবনে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এ ধরনের আসক্তি। তাই শিশুর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের চোখের বিশ্রামের জন্য স্ক্রিন থেকে পর্যাপ্ত সময় বিরতি নিতে উপদেশ দিতে হবে। টিভি, মোবাইল গেম বা যে কোনো ধরনের ভার্চুয়াল এন্টারটেইনমেন্ট দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্কের কোষ থেকে ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার বের হয়। এ ডোপামিন আমাদের মনে এক ভালোলাগার অনুভূতি সঞ্চার করে। তার ফলে অতি সহজেই আমরা এ ধরণের এন্টারটেইনমেন্ট মিডিয়ামগুলোতে (বিনোদনের মাধ্যম) আসক্ত হয়ে পড়ি।’ ‘মোবাইল ফোন শিশুদের মস্তিষ্কের বড় ক্ষতি করে। এ বিষয়ে মনরোগ বিভাগের মাধ্যমে অভিভাবকদের মাঝ সচেতনতামূলক আলোচনা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো হয়তো এর থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব হবে।
লেখক,
মোঃ মনিরুল ইসলাম
আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া