Dhaka ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া রায়গঞ্জে ইভটিজিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম  সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঝটিকা মিছিল সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে জ্বালানিমন্ত্রীর বাড়ির গ্যাস রাইজারে আগুন রায়গঞ্জে স্বামীর মুক্তির দাবিতে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন সলঙ্গার গাড়াদহ নদীতে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে পোনামাছ অবমুক্ত রায়গঞ্জে নদী-বিল-পুকুরে ছাড়া হলো ২৮৫ কেজি পোনামাছ সিরাজগঞ্জে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত, আহত ৩ সিরাজগঞ্জের এমপি আইনুল হকের গাড়িবহরে হামলা মামলার প্রধান আসামি তমাল দুই দিনের রিমান্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জুবায়েরের নেতৃত্বে র‍্যালি, উঠল ত্যাগীদের মূল্যায়নের দাবি
বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় সংবাদ কর্মী নিয়োগ চলছে আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন ই মেইল: pddinkal@gmail.com

স্বাধীনতার পর থেকে সংস্কার হয়নি রায়গঞ্জের দাদপুরের কাঁচা রাস্তা, গ্রামবাসীর অর্থায়নে মেরামত, পাকাকরণের দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের দাদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের গুপিনাথপুরের জামাই রোড থেকে ঘুড়কা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক, অটোভ্যান চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। যাতায়াতের অনুপযোগী হওয়ায় স্থানীয়দের অর্থায়নে রাস্তার প্রায় আধা কিলোমিটারের ভাঙা ও কাদাযুক্ত অংশ মেরামত করেছেন গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ও জাহিদুল ইসলাম। স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদা ও গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন অটোভ্যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় জুতা হাতে নিয়ে কাদাযুক্ত রাস্তা পার হয়ে পাকা সড়কে উঠতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও রাস্তাটির স্থায়ী সংস্কার বা পাকাকরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এ দাদপুর গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে তেমন কোনো স্থায়ী কাজ হয়নি। একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে স্থানীয়রাই নিজেদের অর্থ ও শ্রম দিয়ে রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত করেছেন। রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া আশরাফুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম, রেফাজ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হলেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে কাদা ও ভাঙনের কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায় দেড় কিলোমিটার পুরো রাস্তা মেরামত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই প্রায় আধা কিলোমিটারের যেসব অংশ বেশি ভেঙে গেছে এবং কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, সেসব জায়গা স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেরামত করেছি। এতে অটোভ্যান, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল কিছুটা সহজ হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে।

স্থানীয়রা আরও জানান, গুপিনাথপুরের জামাই রোড থেকে ঘুড়কা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে-দাদপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাদপুর সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাদপুর জি আর ডিগ্রি কলেজ, দাদপুর জি আর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং দাদপুর সাহেবগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল, আমিনুল, ওবাইদুল্লাহ বলেন, কত সরকার এলো আর কত সরকার গেল, কিন্তু আমাদের গ্রামের রাস্তায় কোনো কাজ হলো না। বৃষ্টি হলে জুতা হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাকা রাস্তায় উঠতে হয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম কষ্ট হয়। রাস্তাটি পাকা করে দেওয়া হলে এলাকার মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারত।
রাজ্জাক,শাহাদাৎ হোসেন, হাফিজুল, আলহাজ বলেন, আমাদের গ্রামের রাস্তাগুলো দ্রুত পাকা করা দরকার। বর্ষাকালে কাদা-পানির কারণে চলাচল করা যায় না। বিশেষ করে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি।

স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী, তানভীর, জুবায়ের, শাহনাজ ও তাবাছুম বলেন, বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর। কাদা-পানির কারণে অনেক সময় পোশাক ও জুতা নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তাটি পাকা হলে আমাদের নিয়মিত যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয়দের উদ্যোগে করা এই সাময়িক মেরামত দিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দাদপুর পশ্চিমপাড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দ্রুত পরিদর্শন করে স্থায়ীভাবে পাকাকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, অটোভ্যান চালকসহ এলাকার হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ঈশ্বরগঞ্জের এমপি মাজেদ ডেঙ্গু আক্রান্ত,সুস্থতা কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া

স্বাধীনতার পর থেকে সংস্কার হয়নি রায়গঞ্জের দাদপুরের কাঁচা রাস্তা, গ্রামবাসীর অর্থায়নে মেরামত, পাকাকরণের দাবি

Update Time : ১২:১০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের দাদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের গুপিনাথপুরের জামাই রোড থেকে ঘুড়কা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক, অটোভ্যান চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। যাতায়াতের অনুপযোগী হওয়ায় স্থানীয়দের অর্থায়নে রাস্তার প্রায় আধা কিলোমিটারের ভাঙা ও কাদাযুক্ত অংশ মেরামত করেছেন গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ও জাহিদুল ইসলাম। স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদা ও গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন অটোভ্যান চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় জুতা হাতে নিয়ে কাদাযুক্ত রাস্তা পার হয়ে পাকা সড়কে উঠতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও রাস্তাটির স্থায়ী সংস্কার বা পাকাকরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে এ দাদপুর গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে তেমন কোনো স্থায়ী কাজ হয়নি। একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে স্থানীয়রাই নিজেদের অর্থ ও শ্রম দিয়ে রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত করেছেন। রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া আশরাফুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম, রেফাজ উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হলেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে কাদা ও ভাঙনের কারণে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। প্রায় দেড় কিলোমিটার পুরো রাস্তা মেরামত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই প্রায় আধা কিলোমিটারের যেসব অংশ বেশি ভেঙে গেছে এবং কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, সেসব জায়গা স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেরামত করেছি। এতে অটোভ্যান, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল কিছুটা সহজ হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে।

স্থানীয়রা আরও জানান, গুপিনাথপুরের জামাই রোড থেকে ঘুড়কা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে-দাদপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাদপুর সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাদপুর জি আর ডিগ্রি কলেজ, দাদপুর জি আর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং দাদপুর সাহেবগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল, আমিনুল, ওবাইদুল্লাহ বলেন, কত সরকার এলো আর কত সরকার গেল, কিন্তু আমাদের গ্রামের রাস্তায় কোনো কাজ হলো না। বৃষ্টি হলে জুতা হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাকা রাস্তায় উঠতে হয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম কষ্ট হয়। রাস্তাটি পাকা করে দেওয়া হলে এলাকার মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারত।
রাজ্জাক,শাহাদাৎ হোসেন, হাফিজুল, আলহাজ বলেন, আমাদের গ্রামের রাস্তাগুলো দ্রুত পাকা করা দরকার। বর্ষাকালে কাদা-পানির কারণে চলাচল করা যায় না। বিশেষ করে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি।

স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী, তানভীর, জুবায়ের, শাহনাজ ও তাবাছুম বলেন, বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর। কাদা-পানির কারণে অনেক সময় পোশাক ও জুতা নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তাটি পাকা হলে আমাদের নিয়মিত যাতায়াত অনেক সহজ হবে। এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয়দের উদ্যোগে করা এই সাময়িক মেরামত দিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দাদপুর পশ্চিমপাড়ার এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দ্রুত পরিদর্শন করে স্থায়ীভাবে পাকাকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, অটোভ্যান চালকসহ এলাকার হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।