
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ চার দশকের জলাবদ্ধতার অবসান ঘটিয়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার বিঘা কৃষিজমি আবারও চাষাবাদের আওতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগ এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আশার আলো। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ঘুড়কা ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশনের পাইপলাইন উদ্বোধন করেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘুড়কা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও ঘুড়কা নতুনপাড়া এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় নিয়মিত চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না। ফলে বছরের পর বছর বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে ছিল। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকরা নিজেদের অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়।
ঘুড়কা নতুনপাড়া এলাকার কৃষক তমেজ আলী, রফিকুল ইসলাম, রোকন ও শরিফুল ইসলাম জানান, নতুনপাড়া এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট পাইপলাইন স্থাপনে কৃষকদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ফলে দীর্ঘদিন অনাবাদি থাকা জমিগুলোতে এখন নিয়মিত চাষাবাদ করা সম্ভব হবে। জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন, আমির হোসেন, আব্দুল্লাহেল কাফী, মনিরুজ্জামান, আব্দুল আলীম ও রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে জলাবদ্ধতার কারণে এসব জমিতে বছরে এক ফসলও ঠিকমতো ঘরে তোলা যেত না। এখন উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ১ হাজার ১০০ ফুট পাইপলাইন স্থাপন হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে এই বিলে এখন তিন ফসল চাষ করে ফসল ঘরে তুলতে পারব।
রায়গঞ্জ বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের প্রকৌশলী আনন্দ বর্মন বলেন, ‘কারিগরি দিক বিবেচনা করেই পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। সঠিকভাবে ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের উপকারে আসবে। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ফলে বিপুল পরিমাণ জমি চাষের আওতায় আসবে। এতে কৃষক ও স্থানীয় অর্থনীতি উভয়ই উপকৃত হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি পড়ে থাকা এসব জমিতে এখন ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে কৃষকের আয় ও আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ার পাশাপাশি এলাকার কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন তারা। পাইপলাইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শরিফুল ইসলাম খোকন, হযরত আলী, জগনাথপুর গ্রামের আব্দুল মমিন মাস্টার, রহমতুল বারী লানা, আমির হোসেন, আব্দুল্লাহেল কাফী, মনিরুজ্জামান, আব্দুল আলীম, রফিকুল ইসলাম সঞ্জাবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কৃষকরা।
Reporter Name 









