লুৎফর রহমান, তাড়াশ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের তালম পদ্মপাড়া গ্রামে এক ব্যক্তির আপত্তির কারণে এডিপির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের একমাত্র কাঁচা রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ থমকে যাওয়ায় প্রায় ২৫টি পরিবারের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালম পদ্মপাড়া গ্রামের আফছার হাজীর বাড়ি থেকে আইয়ুব আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৫৫ ফুট কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানোর জন্য এডিপির আওতায় ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর তালম ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। কাজ শুরুর জন্য ঠিকাদার নির্মাণসামগ্রীও ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। তবে নির্মাণসামগ্রী পৌঁছানোর পর গ্রামের বাসিন্দা মো. আব্দুর সবুর প্রামাণিক ওই জমিকে নিজের ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় ঠিকাদার কাজ স্থগিত করতে বাধ্য হন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাস্তার কাজ দ্রুত শুরু ও বাধাদানকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গ্রামবাসী গণস্বাক্ষরসহ সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবার এই পথ ব্যবহার করে আসছে। বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তাই এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তাটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল সালাম, আব্দুল মান্নান ও আছাদুজ্জামানসহ কয়েকজন জানান, এটি গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা। রাস্তাটি পাকা হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ অনেক সহজ হতো। কিন্তু একজনের বাধার কারণে পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্দুর সবুর প্রামাণিক বলেন, জমিটি আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন। চলাচলের জন্য রাস্তা ব্যবহার করতে দিয়েছি, কিন্তু সরকারি অর্থ ব্যয়ে আমার ব্যক্তিগত জমিতে উন্নয়নকাজ করতে দেব না। তালম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. নাজির উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসীর প্রয়োজন বিবেচনা করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক ব্যক্তির আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ই-মেইল: swadesherkhobor@gmail.com