তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা উপজেলার তালম ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে সরকারি পুকুর খননের আড়ালে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল এবং পুকুরের মাছ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক স্কুলশিক্ষিকা। বুধবার (১৭ জুন) ভুক্তভোগী মোছা. খুরশীদ নাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাঁদপুর গ্রামের ১৪৬ নম্বর দাগের ১০ শতাংশ জমির একটি পুকুর তাদের পরিবার দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে এবং সেখানে মাছ চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। পুকুরটির পাশেই রয়েছে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ‘ডাকাত গাড়ী’ নামে একটি জলাশয়, যা স্থানীয় সুফলভোগীরা সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ব্যবহার করে আসছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, দুটি পুকুরের কিছু অংশ একত্রিত হয়ে যাওয়ায় সীমানা নির্ধারণের জন্য তিনি পূর্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেছিলেন। তবে বিষয়টির কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। সম্প্রতি সরকারি জলাশয় খননের সময় তার ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুরের পাড় কেটে দখলের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে পুকুরে থাকা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একই গ্রামের আব্দুর রহিম, খায়রুজ্জামান দুলাল, আব্দুর রহমান ও হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পুকুরটি সরকারি এবং স্থানীয় সুফলভোগীরা বৈধভাবে ইজারা নিয়ে খননকাজ করছেন। এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেবে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার নজরে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
ই-মেইল: swadesherkhobor@gmail.com