নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল সাসেক-২ ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো রকিবর রহমান রকিব রায়গঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সংযুক্ত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই অসুস্থতাজনিত ছুটিতে গেছেন। এতে ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হাটিকুমরুল সাসেক-২ ইন্টারচেঞ্জ এখন বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে। প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভূমি মালিকদের অভিযোগ, অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের চেক পেতে বছরের পর বছর বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। অনেকের দাবি, ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি ও চেক পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তারা কাঙ্ক্ষিত ক্ষতিপূরণ পাননি। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অস্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় দায়িত্ব পালন শেষে গত বুধবার (১০ জুন) তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে কানুনগো হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৪ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। আবেদনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এরপর তার যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত বিষয়ে জানতে কয়েকজন ভুক্তভোগী উপজেলা ভূমি অফিসে যান। তবে কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে না পেয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই ফিরে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ক্ষতিপূরণ বিষয়ে ব্যাখ্যা পাওয়ার আশায় তারা অফিসে গিয়েছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তাকে না পেয়ে তাদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
রাধানগর মৌজার এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, তার প্রায় সাড়ে ২৮ শতক জমি সাসেক-২ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা হয়। ২০২০ সাল থেকে তিনি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। এক পর্যায়ে ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাসে তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং তিনি তা পরিশোধ করেন। পরে তাকে জানানো হয়, তার জমি অধিগ্রহণ তালিকায় নেই। এরপর আবার অতিরিক্ত অর্থ দিলে কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকজন জমির মালিকের। তাদের দাবি, ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও অস্বচ্ছতার সুযোগ নিয়ে ৮ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে কানুনগো রকিবর রহমান রকিব বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী যোগদান করেছেন এবং পরে অসুস্থতাজনিত ছুটিতে গেছেন। ভূমি সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নুর নাহার বেগম জানান, অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমি হারানো মানুষ যেন হয়রানি ও অনিয়মের শিকার না হন। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দ্রুত নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
ই-মেইল: swadesherkhobor@gmail.com