নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাতজন কর্মকর্তা সরকারি খরচে পাকিস্তান সফর করেছেন। তারা করাচি ও লাহোরে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (ডিটিএ)–সংক্রান্ত আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ১৯ ডিসেম্বর এনবিআরের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে যান। সাত দিনের এই সফরে তারা পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ডিটিএ চুক্তি নিয়ে বৈঠক করেন। সফর শেষে আগামী মাসে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ঢাকায় আসবেন বলেও জানানো হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সফরসংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য আপলোড করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এনবিআরের ভেতরেই গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সফরে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন এনবিআরের কর প্রশাসনের সদস্য জি এম আবুল কালাম আজাদ, কর নীতির সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, আয়কর গোয়েন্দা বিভাগের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রাকিব, আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রথম সচিব মো. জাফর ইমাম, দ্বিতীয় সচিব দেওয়ান মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া দলনেতা হিসেবে সফরে ছিলেন এনবিআরের সদস্য মো. লুৎফুল আজীম, যিনি অবসরের আগের মাসে এই সফরে অংশ নেন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত ডিটিএ চুক্তি আলোচনায় তিন থেকে চারজন কর্মকর্তা অংশ নেন। তবে এবার সাত সদস্যের বড় একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সফরে থাকা এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডিটিএ চুক্তি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের আলোচনা যেকোনো দেশের সঙ্গে হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনকালীন নিষেধাজ্ঞার কারণে এ সফর নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও করা যেত।
উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগের পরিপত্রের আলোকে সম্প্রতি সব সচিবের কাছে নতুন করে নির্দেশনা পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, নির্দেশনা অমান্য করে একাধিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা একসঙ্গে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন, যা সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের পরিপন্থি।
ই-মেইল: swadesherkhobor@gmail.com