প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১:৫৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৫, ২০২৬, ৩:০০ পি.এম
হিমেল বাতাসে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল, শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর
ঘন কুয়াশা ও তীব্র হিমেল বাতাসে কাঁপছে দেশের উত্তরাঞ্চল। রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। সকাল থেকেই প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীরা। কুয়াশার কারণে সকালবেলা কাজে বের হতে দেরি হচ্ছে, কমে গেছে দৈনিক আয়। অনেকেই পুরনো ও ব্যবহৃত শীতবস্ত্র দিয়েই শীত মোকাবিলার চেষ্টা করছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে—দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুরে ১২ দশমিক ৬, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১২ দশমিক ৮, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১২ দশমিক ৮, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৩ দশমিক ৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ এবং গাইবান্ধায় ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা সহজে কাটছে না, ফলে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
শীতের কারণে রিকশাচালক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রিকশাচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই, তাই পুরনো জ্যাকেট দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি দামে বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরনো কাপড়ের দামও বেড়েছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
তীব্র শীতে অনেক মানুষ খড়কুটো, কাঠ ও পুরনো কাগজ জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন। এতে একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, ১ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শিশু ও বয়স্কসহ প্রায় ২০০ জন শীতজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় শীতজনিত কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা কাটছে না এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে শীত মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সহায়তা আরও বাড়ানো হবে।
শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় দ্রুত ও সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত না হলে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন
ই-মেইল: swadesherkhobor@gmail.com
ই পেপার